ছবির জন্য পোজ দেওয়া একদল লোক (কেয়ার অব কেএইচসি)
২০১৮ সালের ‘বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস উদযাপন’ করছে কিপ হ্যানয় ক্লিন’ এর স্বেচ্ছাসেবকরা (কেয়ার অব কেএইচসি)

প্রতি চান্দ্রবর্ষে ভিয়েতনামজুড়ে মানুষ হ্রদ এবং নদীতে কার্প মাছ ছাড়ে সৌভাগ্যের প্রত্যাশায়। আর প্রতিবছর অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘কিপ হ্যানয় ক্লিন’ এর প্রতিনিধিরা ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক ব্যাগ পরিষ্কার করার জন্য রাজধানীর এসব উৎসব-অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ইংরেজির শিক্ষক জেমস কেনডাল ভিয়েতনামে থাকেন। তিনি ‘কিপ হ্যানয় ক্লিন’ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। কেনডাল বলেন, ‘আমি পরিবেশের জন্য উপকারী কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম।’

হ্যাটপড়া ব্যক্তি হাসছেন (© ট্যান/কেএইচসি)
হ্যানয়ের এক লেকের পাশে পরিচ্ছন্নতা কাজে ব্যস্ত ‘কিপ হ্যানয় ক্লিন’ এর প্রতিষ্ঠা জেমস কেনডাল

ভিয়েতনামের রাজধানী শহরটিতে দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সবুজের আওতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে ‘কিপ হ্যানয় ক্লিন’ এর।

অন্যান্য আমেরিকান যেভাবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে সহযোগিতা দিচ্ছেন

তরুণ নেতৃত্বকে প্রশিক্ষণ দেওয়া

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী ট্রেভর গিলা এবং তার পোলিশ স্ত্রী অ্যাগনিয়েশকা তিনকিয়েভিজ প্রথম ২০০২ সালে কম্বোডিয়ায় যান। তারা লক্ষ্য করেন, দেশটির অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষকে সাহায্য করা এবং তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বেগবান করার অনেক সুযোগ রয়েছে।

হাতে-কলমে শেখানো এবং প্রকল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তুলতে এই দম্পতি ২০১২ সালে কম্বোডিয়ায় ‘লাইগার লিডারশিপ একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন। নমপেনে অবস্থিত এই একাডেমি সারা কম্বোডিয়া থেকে আসা শিক্ষার্থীদের পূর্ণ বৃত্তি দিয়ে থাকে।

একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা দম্পতি তাদের ওয়েবসাইটে বলেছেন, “ আমরা কম্বোডিয়ার ভবিষ্যত সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করছি।” এতে আরও বলা হয়, “যাদের কোন সমস্যা সম্পর্কে ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ হয়েছে তারাই সাধারণত প্রয়োজনীয় হাতিয়ার পেলে ওই সমস্যাটির সমাধানে সবচেয়ে সক্ষম হয়।”

প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে হুমকির মুখে রয়েছে ফরাসী পলিনেশিয়ার প্রবাল প্রাচীরগুলো। এগুলো সংরক্ষণে পরিবেশবাদীদের সাহায্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের সফটওয়্যার প্রকৌশলী ড্রু গ্রে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স -এআই) প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন।

তাহিতি উপকূলের অদূরে প্রবাল প্রাচীরগুলোকে মনিটর করতে রিফওএস উদ্ভাবনের জন্য গ্রে-কে নিযুক্ত করেছে কোরাল গার্ডেনারস। পানির নিচের উপযোগী ক্যামেরা এবং সেনসর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে রিফওএস সরাসরি (রিয়েল টাইম) তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করবে। এটি পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠনটিকে প্রবাল প্রাচীরের অবস্থা সম্পর্কে বুঝতে এবং সমাধান খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

‘‘আমাদের অন্যতম প্রিয় প্রবাদ হচ্ছে, ‘তুমি কোন কিছুর পরিমাপ করতে না পারলে তার উন্নতিও করতে পারবে না’,’’ গত অক্টোবরে বলেছিলেন ড্রু গ্রে। ‘পুনরুদ্ধার উদ্যোগের সময় এবং পরে প্রবাল প্রাচীরের তুলনামূলক অবস্থা মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা ইকোসিস্টেমে কী প্রভাব ফেলেছি তা পরিমাপ করতে পারি। কাজের পদ্ধতির উন্নয়নে ওই তথ্য কাজে লাগাতে পারবো আমরা।’